জীবনানন্দ দাশ - Books.com

সব ধরনের বাংলা বই এর সমাহার।সম্পুর্ণ ফ্রীতে ডাউনলোড করুন ।

Friday, 29 December 2023

জীবনানন্দ দাশ

অদ্ভুত আধার এক

জীবনানন্দ দাশ

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে -পৃথিবীতে আজ

 যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা

 যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেইপ্রীতি নেইকরুণার আলোড়ন নেই 

 পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া 

 যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি 

 এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক লে মনে হয় 

 মহত্ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা 

 শকুন শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়

-----------------------------

যদি আমিঝরে যাই

 জীবনা্নন্দ দাশ

যদি আমি ঝরে যাই একদিন কার্তিকের নীল কুয়াশায়

 যখন ঝরিছে ধান বাংলার ক্ষেতে-ক্ষেতে ম্লান চোখ বুজে

 যখন চড়াই পাখি কাঁঠালীচাপাঁর নীড়ে ঠোঁট আছে গুজে

 যখন হলুদ পাতা মিশিতেছে খয়েরি পাতায়

 যখন পুকুরে হাঁস সোঁদা জলে শিশিরের গন্ধ শুধু পায়

 শামুক গুগলিগুলো পড়ে আছে শ্যাওলার মলিন সবুজে

 তখন আমারে যদি পাও নাকো লালশাক-ছাওয়া মাঠে খুঁজে

 ঠেস্ দিয়ে বসে আর থাকি নাকো যদি বুনো চালতার গায়ে,

 তাহলে জানিও তুমি আসিয়াছে অন্ধকার মৃত্যুর আহ্বান

 যার ডাক শুনে রাঙা রৌদ্রেরো চিল আর শালিখের ভিড় 

 একদিন ছেড়ে যাবে আম জাম বনে নীল বাংলার তীর

 যার ডাক শুনে আজ ক্ষেতে-ক্ষেতে ঝরিতেছে খই আর মৌরির ধান;-  

============

এই পৃথিবীতে আমি অবসর নিয়ে

জীবনানন্দ দাশ

এই পৃথিবীতে আমি অব সর নিয়ে শুধু আসিয়াছি -আমি হৃষ্ট কবি 

 আমি এক; -ধুয়েছি আমার দেহ অন্ধকারে একা একা সমুদ্রের জলে

 ভালোবাসিয়াছি আমি রাঙা রোদ, ক্ষান্ত কার্তিকের মাঠে -ঘাসের আঁচলে 

 ফড়িঙের মতো আমি বেড়ায়েছি -দেখেছি কিশোরী এস হলুদ করবী 

 ছিঁড়ে নেয় -বুকে তার লাল পেড়ে ভিজে শাড়ি করুন শঙ্খের মতো ছবি 

 ফুটাতেছে -ভোরের আকাশখানা রাজহাস ভরে গেছে নব কোলাহলে 

 নব নব সূচনার: নদীর গোলাপী ঢেউ কথা বলে -তবু কথা বলে

 তবু জানি তার কথা কুয়াশায় ফুরায় না -কেউ যেন শুনিতেছে সবি  

 কোন্ রাঙা শাটিনের মেঘে বসে -অথবা শোনে না কেউ, শূণ্য কুয়াশায় 

 মুছে যায় সব তার; একদিন বর্ণচ্ছটা মুছে যাবো আমিও এমন

 তবু আজ সবুজ ঘাসের পরে বসে থাকি; ভালোবাসি; প্রেমের আশায় 

 পায়ের ধ্বনির দিকে কান পেতে থাকি চুপে; কাঁটাবহরের ফল করি আহরণ 

 কারে যেন এই গুলো দেবো আমি; মৃদু ঘাসে একা -একা বসে থাকা যায় 

 এই সব সাধ নিয়ে; যখন আসিবে ঘুম তারপর, ঘুমাব তখন

==============================

অঘ্রান প্রান্তরে

জীবনানন্দ দাশ

জানি আমি তোমার দুচোখ আজ আমাকে খোঁজেনা আর পৃথিবীরপরে

 বলে চুপে থামলাম, কেবলি অশত্থ পাতা পড়ে আছে ঘাসের ভিতরে 

 শুকনো মিয়োনো ছেঁড়া;- অঘ্রান এসেছে আজপৃথিবীর বনে

 সে সবের ঢের আগে আমাদের দুজনের মনে 

 হেমন্ত এসেছে তবু; বললে সে, ‘ঘাসের ওপরে সব বিছানো পাতার 

 মুখে এই নিস্তব্ধতা কেমন যে-সন্ধ্যারআবছা অন্ধকার 

 ছড়িয়ে পড়েছে জলে; কিছুক্ষণ অঘ্রাণের অস্পষ্ট জগতে 

 হাঁটলাম, চিল উড়ে চলে গেছে-কুয়াশার প্রান্তরের পথে 

 দু-একটা সজারুর আসা-যাওয়া; উচ্ছল কলারঝড়ে উড়ে চুপে সন্ধ্যার বাতাসে 

 লক্ষ্মীপেঁচা হিজলের ফাঁক দিয়ে বাবলার আঁধার গলিতে নেমে আসে

 আমাদের জীবনের অনেক অতীত ব্যাপ্তি আজো যেন লেগে আছে বহতা পাখায় 

  সব পাখিদের সব দূর দূর ধানক্ষেতে, ছাতকুড়োমাখা ক্লান্ত জামের শাখায়

 নীলচে ঘাসের ফুলে ফড়িঙের হৃদয়ের মতো নীরবতা 

 ছড়িয়ে রয়েছে এই প্রান্তরে বুকে আজ…… হেঁটে চলি….. আজ কোনো কথা 

 নেই আর আমাদের; মাঠের কিনারে ঢের ঝরা ঝাউফল 

 পড়ে আছে; খড়কুটো উড়ে এসে লেগে আছে শড়ির ভিতরে

 সজনে পাতার গুঁড়ি চুলে বেঁধে গিয়ে নড়ে-চড়ে

 পতঙ্গ পালক্ জল-চারি দিকে সূর্যের উজ্জ্বলতা নাশ

 আলোয়ার মতো ওই ধানগুলো নড়ে শূন্যে কী রকম অবাধ আকাশ 

 হয়ে যায়; সময়ও অপার-তাকে প্রেম আশা চেতনার কণা 

 ধরে আছে বলে সে- সনাতন;-কিন্তু এই ব্যর্থ ধারণা 

 সরিয়ে মেয়েটি তাঁর আঁচলের চোরাকাঁটা বেছে 

 প্রান্তর নক্ষত্র নদী আকাশের থেকে সরে গেছে 

 যেই স্পষ্ট নির্লিপ্তিতে-তাই- ঠিক;-ওখানে সিগ্ধ হয় সব 

 অপ্রেমে বা প্রেমে নয়- নিখিলের বৃক্ষ নিজ বিকাশে নীরব

 

====== 


 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad